জাতিয় পতাকা দিবস

পতাকা একটি দেশের পরিচয় বহন করে। তাই পতাকা প্রত্যেকটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। পতাকা দিবস হল পতাকা সম্পর্কিত একটি বিশেষ দিন যেদিনটিকে পতাকার জন্য পালন করা হয়। দিনটিতে অবশ্যই ঐতিহাসিক ঘটনা সংবলিত থাকে। পতাকা দিবস প্রত্যেকটি দেশের সংবিধানে স্বীকৃতি থাকে। সংবিধানে এও থাকে প্রত্যেকটা দিবসের দিন পতাকাটি কিভাবে পোড়ানো হবে। তাই আপনি যদি আজকে পতাকা দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই বন্ধুটি ভালো করে পড়ুন।
পতাকা দিবস এর ইতিহাসের কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট কোন পতাকা দিবসের ইতিহাস আসেনা। প্রত্যেকটি দেশের জন্য প্রতীক্ষা দিবসের আলাদা আলাদা ইতিহাস আছে। আজকে এই নিবন্ধে বাংলাদেশ এবং ভারতের পতাকা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

জাতিয় পতাকা দিবসের ইতিহাস

বাংলাদেশ পশ্চিম পাকিস্তানিদের কাছ থেকে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন। 1971 সালে 2 মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষিত হওয়ার সময় থেকে দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মিলিত হয়। তারা পাকিস্তানি শাসন আর শোষনের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকশু নেতৃত্বে  নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রে সংগ্রামে নামে। সেদিনের সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা সম্পর্কে মানুষের মনে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এর আগে শিবনারায়ণ দাশ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা তৈরি করেন। ওই নকশা অনুযায়ী তৈরি হয় বাংলাদেশের পতাকা। এবং সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে 2 মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করা হয়। এরপরে 1971 সালে 23 শে মার্চ ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু তার নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেদিন থেকে 2 মার্চ কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেছেন শিল্পী কামরুল হাসান।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?

2 মার্চ কে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এই দিনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

পতাকা উত্তোলনের নির্দিষ্ট  সময়

প্রত্যেকটি দেশের পতাকা উত্তোলনের নির্দিষ্ট কিছু সময় বেঁধে দেওয়া আছে। এই সময় জাতীয় সংবিধান কর্তৃক গৃহীত ও অনুমোদিত। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তেজিত করে রাখা যাবে। এটাই সংবিধান কর্তৃক নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কারণবশত রাতের বেলা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে। যেমন: রাতে যদি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি বা মন্ত্রীগণ শপথ গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত করে রাখা যাবে।

জাতীয় পতাকার আকার ও আকৃতি

জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন জাতির সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই প্রতিটি স্বাধীন দেশ ও জাতিরই একটি জাতীয় পতাকা আছে। জাতীয় পতাকা দেশের সব মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। যেকোনাে স্বাধীন দেশ বা জাতি তার জাতীয় পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। জাতীয় পতাকার আকার ও আকৃতি ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় ঘন সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত থাকবে। জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। পতাকার দৈর্ঘ্য যদি ৩০৫ সেন্টিমিটার (১০ ফুট) হয়, প্রস্থ ১৮৩ সেন্টিমিটার (৬ ফুট) হবে। লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেছেন শিল্পী কামরুল হাসান।

জাতীয় পতাকা আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত মর্যাদার ও সম্মানের। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও এর সম্মান রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আমাদের লক্ষ লক্ষ বীর শহিদ এ পতাকার জন্যই তাঁদের জীবনদান। করেছেন। যখন নীল আকাশের মাঝে আমাদের এ পতাকা উড়তে থাকে, তখন তা দেখে গর্বে আমাদের বুক ভরে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *