আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস; তারিখ,পটভূমি,শুভেচ্ছা বার্তা, ছবি, উক্তি, গান, কবিতা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ শহ বিশ্বের বহু দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। পৃথিবীতে শুধু একটিমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে অর্জন করেছে মায়ের ভাষা। এই মাতৃভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য হাজার 1999 সালে ইউনেস্কো ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কবিতা, শুভেচ্ছা, ছবি সংযুক্ত করলাম।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি

১৯৪৭  সালের দেশ ভাগ হওয়ার পর ব্রিটিশরা পাকিস্তানের দুটি প্রদেশে ভাগ করে দেয়। একটি পূর্ব পাকিস্তান অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের মূল শাসনযন্ত্র চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। পূর্ব পাকিস্তান( বাংলাদেশ)  আবার ও পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে পরাধীনতা অনুভব করতে শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বিভিন্নভাবে পূর্ব পাকিস্তানের উপর অন্যায় অত্যাচার শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য প্রথমে মাতৃভাষার উপর আঘাত আনে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভাষা সংস্কৃতি সব বাংলা কে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ উর্দু ভাষাকে বুঝেই না ।

এ অবস্থায় উর্দুকে  পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে। কিন্তু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা রাষ্ট্রভাষা  করার দাবি তোলেন পশ্চিম পাকিস্তানের সংসদে। কিন্তু,  পশ্চিম পাকিস্তানী তৎকালীন নেতারা বাংলাকে কোনভাবেই রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিচ্ছিল না। এমত অবস্থায়,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা  রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মেতে ওঠে। এই আন্দোলন সংগ্রামের একপর্যায়ে আন্দোলনকে কঠোর হাতে স্থগিত করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানীরিরা ১৪৪ ধারা জারি করেন । কিন্তু সাধারণ ছাত্র,  শিক্ষক , শ্রমিক, মজুর , দের কোনোভাবেই এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। তারার ১৯৫২  সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সমবেত হয়। এরপর তারা ১৪৪  ধারা ভাঙার প্রস্তুতি নেয়। তারা মিছিল  দিয়ে কার্জন হল পেরিয়ে রাস্তায় নামলে পাকিস্তানি সেনারা তাদের উপর নির্বিচারে গুলি করে। সেই গুলিতে সালাম,  রফিক,  বরকত,  জব্বার সহ অনেকেই নিহত হন। সেই শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পরে ইউনেস্কো থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কবে?

দিবস হচ্ছে অতীতের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাকে স্মরণ করার জন্য এক উদযাপনের নির্দিষ্ট দিন। ১৯৫২  সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য জীবন দিয়েছিলেন। সেইসব দামাল ছেলে যারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য জীবন দিয়েছিলেন তাদের স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা

আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি কে জনে, যদি বাংলার দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত না দিত তাহলে হয়তো আমরা অন্য কোন বিদেশি ভাষায় কথা বলতাম। আমরা কথা বলতে পারতাম না মায়ের মুখের কাছ থেকে শেখা ভাষা। তাই আমাদের এই প্রিয় মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দিলেন তাদের আত্মার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকবো আজীবন। এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য আমরা অনেকেই বিভিন্ন শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে একে অপরকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা স্মরণ করিয়ে দেই। আর্টিকেলের এই অংশে আমি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য কিছু শুভেচ্ছাবার্তা সংযুক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণ করে আমাদের নির্মিত হয়েছে জাতীয় শহীদ মিনার। ১৯৫২ সালে যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন তাদের স্মৃতিতে এই শহীদ মিনার সহ বিভিন্ন রকম ছবি ডিজাইন অনেকেই ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করেন। কারণ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা রকম কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি কর্মসূচি হচ্ছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। আপনি যদি ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এরকম কোন ছবি অনুসন্ধান করেন তাহলে আমাদের পোস্ট এর নীচে সেগুলো পেয়ে যাবেন।

মাতৃভাষা দিবসের ছবি
মাতৃভাষা দিবসের ছবি
মাতৃভাষা দিবসের ছবি
মাতৃভাষা দিবসের ছবি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উক্তি

জ্ঞানীগুণী মনীষীরা চারা মাতৃভাষার প্রয়োজনীয়তা ভীষণভাবে অনুভব করেন, তারা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রকম উক্তি দিয়ে গেছেন। এরকমই কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কিছু উক্তি শুনে নেব।

ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!
– মাইকেল মধুসূদন দত্ত 

বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে
– প্রমথ চৌধুরী 

আমার মায়ের ভাষা এসেছে আমার অনেক ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে
তাইতো আমরা বলি
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি

ভাষা শহীদের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা আমাদের মাতৃভাষা
ধন্য হয়েছে এই বাংলা ধন্য হয়েছে আমরা কারন পেয়েছি আমরা বাংলা।

মাতৃভাষা নিয়ে কবিতা

অনেকে আছেন যারা বাংলা আমার মাতৃভাষা কবিতা লিখে অনুসন্ধান করেন। তাই আপনাদের জন্য এখানে মাতৃভাষা নিয়ে কবিতা দেওয়া হয়েছে। আশাকরি মাতৃভাষা নিয়ে লিখিত কবিতাগুলো আপনাদের অনেক পছন্দ হবে। কবিতা গুলো পছন্দ হলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *