জেল হত্যা দিবস; তারিখ, ইতিহাস, বিচারকার্য, ছবি, বানী

জেলহত্যা দিবস আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রতিপদ ৩ নভেম্বর পালিত হয়। এদিন বাংলাদেশের বিখ্যাত চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তারা হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ,সাবেক বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন নাম্বার ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এই নিশংস তম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ এর জন্য প্রতিবছর 3 তারিখ নভেম্বর মাসের জেল হত্যা দিবস পালিত। আপনি যদি জেলহত্যা দিবস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই অনুচ্ছেদটি আপনার জন্য।

জেল হত্যা দিবস কবে?

প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করেন জেলহত্যা দিবসের তারিখ সম্পর্কে জানার জন্য। তাই আমি সেই সকল পাঠকদের উদ্দেশ্যে আজকে জেলহত্যা দিবসের তারিখ এখানে উল্লেখ করলাম। বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড মধ্যে একটি হচ্ছে জেল হত্যা। এই তিন জেলের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক চারজন বিখ্যাত ব্যক্তি কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিল ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। তাই ৩ নভেম্বরকে জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

জেল হত্যা দিবসের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির মধ্যে কিছু বিপথগামী সেনা সপরিবারে হত্যা করে। অভ্যুত্থানকারীরা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে পাল্টা অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হন। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকারীদের দেশ থেকে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কতিপয় সেনা কর্মকর্তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, সাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী,  ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি কামরুজ্জামানকে গুলি করে নিঃসংশ ভাবে হত্যা করে। তাদেরতাদেরতাদেরতাদের তিনজনের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজপথ। এই বাহান তিনজন নেতাদের রক্ত মিশে যায় একসাথে। তার পরে বছর থেকেই মূলত জেলহত্যা দিবস পালিত হয়ে থাকে।

জেলহত্যা দিবসের বিচারকার্য

এতক্ষণ অনুচ্ছেদটি পড়ে হয়তো আপনার মনে ক্ষোভ ঘৃণা জাকতেচে হত্যাকারীদের উপর। আপনাদের মনে হয় তো প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি? হ্যাঁ এই রকমই মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। জেল হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছিল কিন্তু অনেক দেরিতে। জেলহত্যার প্রায় 29 বছর পরের বিচারকার্য শুরু হয়। 2004 সালে 22 শে অক্টোবর 3 জন পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড ও 12 জন সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। বি এম পির চারজন সিনিয়র নেতাসহ পাঁচ জনকে খালাস দেওয়া হয়। এরপরে 2008 সালে 28 শে আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জেলহত্যা মামলার অভিযুক্ত 6 জন সামরিক কর্মকর্তাদের খালাস দেয়। এর মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, এবং একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে 2010 সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ খালাসিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

জেলহত্যা দিবসের ছবি

1975 সালের 15 আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায় বাংলাদেশের বিরোধী শক্তি। বাংলাদেশের মানুষ ফুলে-ফেঁপে উঠেছে অপশক্তিকে রুখে দিতে। এই নৃশংসতম গণহত্যা ঘৃণা এখনো মানুষের মনে জন্মে আছে। তাই প্রতি বছর জেল হত্যা দিবসের মানুষ একজন অপরজনকে জেল হত্যার মতো নৃশংসতম গণহত্যা আর কথা স্মরণ করে একে অন্যকে ছবি দিয়ে শেয়ার করে। তাই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ জেলহত্যা দিবসের ছবি ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করেন। আমি নিবন্ধের এই অংশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলহত্যা দিবসের ছবি সংযুক্ত করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *