কন্যা দিবস; তারিখ, ইতিহাস, শুভেচ্ছা বার্তা, উক্তি ও ছবি

ইসলাম ধর্মে আছে যে বাড়িতে কন্যা থাকে সে বাড়িটি বেহেস্তের বাগান। এই শব্দটি থেকে বোঝা যায় কন্যাদের গুরুত্ব কি? আমাদের পারিপার্শ্বিক কথা বিবেচনা করে বলতে পারি একটি বাড়িতে কন্যাশিশুর থাকার গুরুত্ব কতখানি। যে বাড়িতে একটি কন্যা শিশুর আছে সে বাড়ি সত্যি সত্যি বেহেস্তের বাগান হয়ে যায়। আসুন জেনে নেই কন্যা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে। কারণ বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে কন্যা দিবসে প্রবর্তন করা হয়।

কন্যা দিবসের ইতিহাস

কন্যা দিবস গোটা বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। বিশ্বের অনেকেরই ধারণা কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে নেতিবাচক। কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে এই নেতিবাচক ধারণা ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য কন্যা দিবস এর প্রবর্তন করা হয়। পৃথিবীতে অনেক সমাজের মানুষ কন্যাকে এখন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তে দেখে থাকে। এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য 2012 সালে প্রথম কন্যা দিবস এর প্রবর্তন করা হয়। অনেক সমাজের ধারণা কন্যারা সমাজের জন্য বেশি সুফল বয়ে আনতে পারে না। কিন্তু এ ধারণা যে সম্পূর্ণ মিথ্যে এই কথাই পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই কন্যা দিবসের সূচনা হয়। কারণ কন্যারাও সুশিক্ষা পেলে সমাজের একজন উচ্চপদস্থ নাগরিক হতে পারে। বর্তমান এই একুশ শতকে এসে কন্যারা দেখিয়ে দিয়েছে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় জ্ঞান-গরিমায় কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই।

কন্যা দিবস কবে ?

 আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস গোটা বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর ১১ অক্টোবর তারিখে পালন করে। এই দিবসকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে প্রথম এই দিবস পালন করা হয়েছিল। লিংগ বৈষম্য দূর করা এই দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র সমূহ হল শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা, ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক তথা বাল্যবিবাহ।

কন্যা দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা

এক দেশের মধ্যেই রয়েছে বহু দেশ।ঢাকা, কলকাতার মতো বড় শহরে মেয়েরা যেখানে ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে, সেখানে আমাদের দেশেই এমন অনেক ছোট শহর এবং গ্রাম রয়েছে, যেখানে আজও মেয়েদের পায়ের নীচে রাখা হয়। ন্যূনতম সামাজিক সম্মান তো দূর, তাঁদের নিজের মতো বাঁচারও অধিকার নেই। এমনকী, মানুষ হিসেবেও মেয়েদের বিবেচনা করা হয় না। তাই তো আজও বাংলাদেশের  মতো উন্নয়নশীল দেশেও কন্যা সন্তানদের যেমন নির্ধিধায় হত্যা করা হয়, তেমনই শিক্ষার অধিকার থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়ে থাকে। এমনটা হওয়া কি আদৌ উচিত? তাই বলতে দ্বিধা নেই যে আমাদের দেশে আরও ধুমধাম করে কন্যা দিবস পালন করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, দেশের ছেলেরা যতদিন না মেয়েদের সম্মান করতে শিখছে, যতদিন না তাঁদের সমান আসনে বসাচ্ছে, ততদিন এই দেশ যে প্রকৃত অর্থে ‘ডেভলপড কান্ট্রি’ হয়ে উঠবে না, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই তো দেশ এবং দশের স্বার্থে সারা দেশজুড়ে কন্যা দিবস  পালনের মধ্যে দিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সময় এসে গেছে। তাই আমি কন্যা দিবসের কিছু শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে এসেছি ।

কন্যা দিবসের উক্তি

যারা প্রকৃত অর্থেই জ্ঞানী মানুষ, যারা সমাজের ভালো-মন্দ বুঝতে পারে তারা ঠিক এই কন্যা দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে। তাই পৃথিবীর বিখ্যাত জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি রাজকন্যা দিবসের বিভিন্ন রকম উক্তি দিয়ে এসেছেন। আজকে আমরা কন্যা দিবসের কিছু বিখ্যাত মনীষীদের উক্তি সংযুক্ত করেছি।

১. “আমি বাড়িতে এলে আমার মেয়েটি দৌড়ে এসে আমাকে একটি বড় আলিঙ্গন দেবে এবং সেদিন যা ঘটেছিল তা কেবল গলে যায়” ” – হিউ জ্যাকম্যান

২. “আমার বাবা কীভাবে বাঁচবেন তা আমাকে জানায়নি। তিনি বেঁচে আছেন এবং আমাকে এটি করতে দেখেন ”’ – ক্লেরাস বুডিংটন ক্যাল্যান্ড

৩. “আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্তটি সম্ভবত আমার কন্যার জন্মের সময় হয়েছিল” “ডেভিড ডুচভনি

৪. “আমার পিতাই আমাকে নিজের মূল্যবান হতে শিখিয়েছিলেন।” – ভোর ফরাসী

কন্যা দিবসের ছবি

কন্যা দিবস কে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের সোশল মেডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্যা দিবস উপলক্ষে যদি আমরা ব্যাপকহারে ছবি পোস্ট বা শেয়ার করি তাহলে সবাই কর্নার দিবসের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বুঝতে পারবে। সমাজ বুঝতে পারবে একটি সমাজ একা কখনও চলতে পারবে না যদি না কন্যারা সামনে এগিয়ে না আসে। তাই এই নিবন্ধে আমি কিছু কন্যা দিবসের ছবি সংযুক্ত করেছে এই ছবিগুলো আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবেন।

কন্যা দিবসের ছবি
কন্যা দিবসের ছবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *