প্রবাসী দিবস,তারিখ, প্রতিপাদ্য বিষয়, ইতিহাস, শুভেচ্ছা বার্তা, উক্তি, স্ট্যাটাস, ছবি

প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে যথাযথভাবে ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রবাসী দিবস পালন করা হয়। এদিন অনেকেই নিজের আত্মীয়-স্বজন প্রিয়জন প্রবাসে যারা পরিশ্রম করে নিজ দেশ উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চায় তাদের কথা স্মরণ করে বিভিন্ন রকম শুভেচ্ছাবার্তা সহ আলোচনা করে। প্রবাসী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে প্রবাসে যারা পরিশ্রম করে নির্দেশ উন্নয়ন করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। তাই আপনি যদি প্রবাসী দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই নিবন্ধটি ভালো করে অনুশীলন করুন।

প্রবাসী দিবস কবে?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী দিবস বিভিন্ন বিভিন্ন তারিখে উদযাপিত হয়ে থাকে। যেমন প্রতিবছর 9 জানুয়ারি তারিখে ভারতের উন্নয়ন অনাবাসী প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালন করা হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে প্রবাসী দিবস পালন করা হয় 30 শে ডিসেম্বর। বাংলাদেশ পৃথিবীতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে মূলত দু’টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। একটি হচ্ছে গার্মেন্টশিল্প অন্যটি হচ্ছে রেমিটেন্স। রেমিটেন্সের সিংহভাগ আসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় এর ফলে। তাই বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এর জন্য প্রতিবছর যথাযোগ্য ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে 30 শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রবাসী দিবস পালন করা হয়।

প্রবাসী ভারতীয় দিবসের ইতিহাস

২০০৩ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির কাছে, হাই-লেভেল কমিটি (HLC) থেকে ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’ পালন করার প্রস্তাব পাঠানো হয়। তৎকালীন রাজ্যসভার সদস্য ও কূটনীতিক লক্ষ্মী মল সিংভীর সভাপতিত্বে, অটল বিহারী বাজপেয়ির কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

এরপর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী, ভারত সরকার, কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বারস্ অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FICCI) এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে ৯ জানুয়ারি প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালন শুরু করা হয়।

প্রবাসী দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা

বিশ্বে প্রবাসীদের আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। পৃথিবীতে পঞ্চম বৃহত্তম দেশ, যে দেশে এত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমান 88 লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। এই ব্যাপক সংখ্যক প্রবাসী প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করে বাংলাদেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই প্রবাসীদের বলা হয় বাংলাদেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা। এই বিশ্ব প্রবাসী দিবসে সকল রেমিটেন্স যোদ্ধা দের শুভেচ্ছা জানানোর কখনোই ভুল করা যায় না। নিচে আমি প্রবাসীদের শুভেচ্ছাবার্তা জানানোর কিছু শুভেচ্ছার জন্য সংযুক্ত করলাম।

প্রবাসীদের কষ্টের কবিতা

প্রবাসীদের অশ্রু ঝরা কষ্টের কবিতা।

প্রবাস জীবন মানে নিষ্ঠুর, নিঃসঙ্গ জীবন যাপন এবং
প্রিয় জনের সান্নিধ্য থেকে হাজার মাইল দূরে দেয়াল
বিহীন কারাগারে এতিমের মত বসবাস করা প্রবাস জীবনে যারা পদার্পণ করেছেন একমাত্র তারাই প্রবাস জীবন যে কেমন নির্দয় এবং নির্মম তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। শস্য-শ্যামলা সবুজে ঘেরা সোনার বাংলাদেশ এবং মা,বাবা,ভাই, বোন আত্মীয় স্বজন এমনকি নিজের স্বাদের স্ত্রীর মায়া -মমতা ভালোবাসা ত্যাগ করে,সংসারের সবার মুখে হাসি ফুটাবার জন্য, আর্থিক উন্নতির জন্যই প্রবাসের মাটিতে পা রাখতে হয়।

প্রবাস জীবন নিয়ে উক্তি

প্রবাস জীবন নিয়ে উক্তি গুলো আমাদের একবার পড়া উচিৎ । কারণ আমরা এখনো অনেকেই জানি না, আসলে প্রবাসে আমাদের ভাই বন্ধুরা কিভাবে জীবন যাপন করে । উক্তি গুলোর মাধ্যমে তার একটা ধারনা নেয়া যেতে পারে । তো চলুন দেখা নেয়া যাক, সেই বিখ্যাত উক্তি গুলো ।

মাঝেমাঝে তোমার একটা জায়গাকে অনুভব করার জন্য সেটি ছেড়ে যেতে হয়, মাঝেমধ্যে তোমার অন্য কোথাও যেতে হয় তোমার শুরুটা কেমন ছিল তা জানার জন্য।
— জডি পিকউড

জীবনে আনন্দ আসে নতুন কোন অনুভূতির মাধ্যমে, নতুন কোথাও যাওয়ার মাধ্যমে আর এটাই জীবনের অনেক বড় পাওয়া।
— ক্রিস্টোফার ম্যাকক্যান্ডলেস

প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস

প্রবাস জীবনের একাকিত্বতা অনেকটাই অস্বাভাবিক আর জটিল। এই জীবনের অনুভূতি স্বাধীনতার নয় বরং পালিয়ে থাকার।
— এডাম গপনিট

যখন তুমি প্রবাস জীবন অতিবাহিত কর তখন তুমি সেই দেশেও বিদেশি আর নিজের দেশেও বিদেশি। একটার জন্যেও তুমি যথেষ্ট নও।
— ইজিওমা উমেবিনউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *